August 28, 2026, 9:07 am
করোনাকালীন সময়ের কথা চিন্তা করে আইপিও সাবক্রাইপশন আপাতত ৩ মাস বন্ধ রাখাসহ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১৯ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামের সাথে বৈঠকে এ দাবি জানায় বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।
এ সময় বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন শামীম এবং সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ওমর শরীফ শুভ উপস্থিত ছিলেন।
বিএসইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক শেষে পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান আমাদের দাবিগুলো পড়ে দেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অামাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। এসব দাবিগুলোর মধ্যে অধিকাংশ দাবি নিয়ে তিনি কাজ করছেন। বাদবাকি দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। পুঁজিবাজারকে গতিশীল রাখতে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে তিনি কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে শুরু ২০২০ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পূঁজিবাজারে যে মহাধ্বস নেমে এসেছিল সেই ধ্বসের কারণে বহু বিনিয়োগকারী পূঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে এবং অনেকে আত্মহত্যা করেছে। আপনার কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আপনার যোগ্য নেতৃত্বের কারণে পূঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা ও পূঁজিবাজারের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের হারানো পূঁজি ফিরে পাচ্ছে। পূঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করেছে।
বিনিয়োগকারীদের ১৯ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- করোনাকালীন আইপিও সাবস্ক্রিপশন ৩ মাস বন্ধ রাখতে হবে। পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার বৃহত্তর স্বার্থে অতিদ্রুত বাইব্যাক আইন পাস করতে হবে। কোনো কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ভালো থাকা সত্ত্বেও, সে কোম্পানির শেয়ার দর যদি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়, তাহলে ওই কোম্পানিকে রিজার্ভ থেকে অবশ্যই শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদেয় ঐতিহাসিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাজারের পতন রোধে ফ্লোর প্রাইজ পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে এবং দশ টাকার নিচে বা ফেস ভ্যালুর নিচের প্রত্যেকটি শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ভ্যালু ন্যূনতম দশ টাকায় নির্ধারণ করতে হবে। হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত কোম্পানি আইনের ২সিসি ধারা মোতাবেক শেয়ার বাজারের লিস্টেড প্রতিটি কোম্পানির পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে এবং এককভাবে পরিচালককে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানিকে আইপিও অনুমোদন দেওয়া যাবে না। ওই কোম্পানির পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে তাদের পরিশোধিত মূলধন কম পক্ষে ২০০ কোটি টাকা হতে হবে। কোনো কোম্পানিকে আইপিওতে আসতে হলে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে। রাইট শেয়ার ইস্যু বন্ধ রাখতে হবে। তবে যেসব কোম্পানি পরপর কমপক্ষে ৫ বৎসর ১০ শতাংশ হারে ক্যাশ ডিবিডেন্ট দিয়েছে বা দিবে তাদের ক্ষেত্রে রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে। বাজারের তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য বিদ্যমান মার্জিন লোন প্রদানের হার ১ : ০.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ১:১ করতে হবে। আর মার্জিন লোনের সুদ বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা করতে হবে।
সরকার ঘোষিত সব ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বাজারে ২০০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে এবং বাজারের আস্থা সৃষ্টি ও তারল্য সংকট দ্রুত দূর করার জন্য উক্ত বিনিয়োগসমূহ বাধ্যতামূলকভাবে সর্বোচ্চ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। যেসব অডিটর, ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডার রাইটার, অ্যাসেট ভ্যালুয়েশন কোম্পানি, স্পন্সশর মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইপিও অনুমোদনে সহায়তা করে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটপাট করেছে তাদের ৩ বৎসরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ১৭ দফা দাবিগুলো হলো:
১.করোনাকালীন সময়ের কথা চিন্তা করে আইপিও সাবক্রাইপশন আপাততঃ ৩ মাস বন্ধ রাখতে হবে।
২.পূঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার বৃহত্তর স্বার্থে অতিদ্রুত “বাইব্যাক আইন” পাস করতে হবে। এক্ষেত্রে কোম্পানীর পরিচালনা পর্ষদকে ইস্যু মূল্যে অথবা ঘঅঠ এর ৫% কম এই ২টির মধ্যে যেটি বেশি হবে সেই মূল্যে শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।
৩.কোন কোম্পানীর রিজার্ভের পরিমাণ ভালো থাকা সত্ত্বেও, সে কোম্পানীর শেয়ার দর যদি অস্বাভাবিকভাবে কমে যায় তাহলে ঐ কোম্পানীকে রিজার্ভ থেকে অবশ্যই শেয়ার বাইব্যাক করতে হবে।
৪. প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদেয় ঐতিহাসিক যুগান্তকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাজারের পতন রোধকল্পে ‘ফ্লোর প্রাইজ’ পদ্ধতি বহাল রাখতে হবে এবং দশ টাকার নিচে বা ফেস ভ্যালুর নিচের প্রত্যেকটি শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ভ্যালু ন্যূনতম দশ টাকায় নির্ধারণ করতে হবে।
৫. মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশিত কোম্পানী আইনের ২ঈঈ ধারা মোতাবেক শেয়ার বাজারের লিস্টেড প্রতিটি কোম্পানীর পরিচালকগণকে সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০% শেয়ার ধারণ করতে হবে এবং এককভাবে পরিচালকগণকে ২% শেয়ার ধারণ করতে হবে। ২% শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোন কোম্পানী পরিচালকের পদ শূণ্য হলে যদি এর বাইরে কোন বিনিয়োগকারী বা প্রতিষ্ঠান ২% শেয়ার ধারণ করে তারা অটোমেটিকভাবে পরিচালকের পদ পেয়ে যাবে- এই ব্যবস্থা করতে হবে।
৬.স্বল্পমূলধনী ও দুর্বল কোম্পানীকে ওচঙ অনুমোদন দেওয়া যাবে না। ঐ সমস্ত কোম্পানী পূঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে তাদের চধরফ টঢ় ঈধঢ়রঃধষ কম পক্ষে ২শ কোটি টাকা হতে হবে। কোন কোম্পানীকে আইপিওতে আসতে হলে পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়তে হবে।
৭.রাইট শেয়ার ইস্যু বন্ধ রাখতে হবে। তবে যেসকল কোম্পানী পরপর কমপক্ষে ০৫ বৎসর ১০% হারে ক্যাশ ডিবিডেন্ট দিয়েছে/দিবে তাদের ক্ষেত্রে রাইট শেয়ার ইস্যুর বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।
৮.বাজারের তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য বিদ্যমান মার্জিন লোন প্রদানের হার ১ : ০.৫% থেকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম ১:১ করার দাবি করছি। মার্জিন লোনের সুদ বার্ষিক শতকরা ১০ টাকা করতে হবে।
৯.সরকার ঘোষিত সকল ব্যাংকগুলোকে শেয়ার বাজারে দুইশো (২০০) কোটি টাকা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধি করে ন্যূনতম পাঁচশো (৫০০) কোটি টাকা পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে এবং বাজারের আস্থা সৃষ্টি ও তারল্য সংকট দ্রুত দূর করার জন্য উক্ত বিনিয়োগসমূহ বাধ্যতামূলকভাবে সর্বোচ্চ আগামী ডিসেম্বর ২০২০ইং এর মধ্যে বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।
১০.আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, শেয়ার বাজার এবং ব্যাংকের মানদন্ডের সাথে তাল মিলিয়ে এদেশীয় সরকারি-বেসরকারি খাতকে আরও অধিকতর শক্তিশালী ও গতিশীল করার জন্য বাস্তবতার আলোকে সময় উপযোগী ব্যাংক ঋণের বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট সৃষ্টি করতে হবে।
১১. যেসকল অডিটর, ইস্যু ম্যানেজার, আন্ডার রাইটার, এ্যাসেট ভ্যালুয়েশন কোম্পানী, স্পন্সশর মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইপিও অনুমোদনে সহায়তা করে বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটপাট করেছে তাদেরকে ৩ (তিন) বৎসরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
১২.পাবলিক ইস্যু রুলস্ ২০১৫ এর আওতাধীন বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বাতিল করতে হবে এবং পূর্বের ন্যায় ফ্রিক্সড প্রাইজ পদ্ধতিতে আইপিও অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিপূর্বে অনুষ্ঠিতব্য বিডিং প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত ইস্যু ম্যানেজার, ইলিজেবল ইনভেষ্টর ও কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
১৩.ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। ওটিসি মার্কেট বন্ধ করে সেখানকার কোম্পানী সমূহকে প্রয়োজনে কিছু ছাড় দিয়ে হলেও মূল বাজারে ফিরিয়ে আনতে হবে বা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পত্তি বিক্রি করে ঘঅঠ অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হবে।
১৪. যেসকল ব্রোকার হাউজের ডিলার একাউন্টে ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা ইনভেষ্টমেন্ট নেই, তাদেরকে ইলিজেবল ইনভেষ্টরের কোটা থেকে ও ফেক প্রভিডেন্ট ফান্ডকেও ইলিজেবল ইনভেষ্টরের কোটা থেকে বাদ দিতে হবে।
১৫.বিনা কারণে ডিলিস্টিং হওয়া রহিমা ফুডকে মূল মার্কেটে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং চখঋ-এর লেনদেন পুণরায় চালু করতে হবে।
১৬.বাজারে বর্তমানে লিস্টেড সাইত্রিশ (৩৭) টি মিউচুয়াল ফান্ডের ভূমিকা ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। কারণ প্রচার আছে যে, মিউচুয়াল ফান্ড গুলো বাজার থেকে টাকা উত্তোলন করে সেই টাকা শেয়ার বাজারে যথাযথ সময়ে, যথাযথভাবে বিনিয়োগ না করে তারা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন বেনামি ব্যবসা এমনকি ব্যাংকেও এফডিআর করে বলে প্রচুর অভিযোগ আছে। তাই তাদের ফান্ড গুলোকে কঠোর তদারকির আওতায় এনে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে সমুদয় টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাধ্য করতে হবে।
১৭.সিডিবিএল, ডিএসই, সিএসই কে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হবে। শতভাগ ডিজিটাল, অনলাইন ও আধুনিক সেবার আওতায় তাদেরকে দ্রুত নিয়ে আসতে হবে, যাতে করে অদূর ভবিষ্যতে যে কোন দূর্যোগ/দূর্ঘটনা/ প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ পূঁজিবাজার শতভাগ চলমান থাকতে পারে। কোনো ভাবেই বৈশ্বিক পূঁজিবাজার থেকে আমাদের পূঁজিবাজারকে বিচ্ছিন্ন না হয়।